প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১:২৯:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রম জাতির আস্থা অর্জন করেছে। সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’’ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কাছে একটি গর্বের বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন।’
‘এ ছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে’, যোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম গত ১ মে থেকে চালু করা হয়েছে। আমরা আশা করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন।’
মন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে মিরপুর ও সদরঘাটে দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি মিরপুরে সদরদপ্তর ভবনের কাজও চলছে। এ ছাড়া ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ ও ফ্রেশ মানির দাবি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডে তিন কর্মী নিহত হন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে বাহিনীটি ২৭ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। এ ছাড়া হাজারো সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ, রোগী পরিবহন, অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।








