প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১১:২৬:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রাত গভীর হলেও হাতে মোবাইল ফোন, কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবিরাম স্ক্রলিং, কখনও আবার ওয়েব সিরিজে ডুবে থাকা- আধুনিক জীবনের এই অভ্যাস অনেকের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু অজান্তেই এই রাত জাগা অভ্যাস শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাময় প্রক্রিয়া, অর্থাৎ ঘুমের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমকে বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় অভ্যাস হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বর্তমানে অনিদ্রা অনেকের জীবনেই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। শরীর যখন বিশ্রাম চায়, তখনও আমরা ফোন স্ক্রল করি, টিভি দেখি কিংবা মেসেজের উত্তর দিতে ব্যস্ত থাকি। অনেকে আবার কম ঘুমিয়েও নিজেকে স্বাভাবিক দাবি করেন। তবে দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস জরুরি
১. সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
চা, কফি ও চকোলেটে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাই সন্ধ্যার পর এসব খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চললে সহজে ঘুম আসতে পারে।
২. ঘুমের সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন
ওয়াইফাই রাউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে নির্গত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমের সময় এসব যন্ত্র থেকে দূরে থাকা ভালো।
৩. ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন
হালকা স্ট্রেচিং, গরম পানিতে গোসল, বই পড়া বা মৃদু সুরের গান শোনা স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মানও ভালো হয়।
৪. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে ঠিক রাখে। ফলে শরীর নিজেই বুঝতে পারে কখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়।














