মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ১৯ মে ২০২৬ , ২:৫১:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় গাভী পালন ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন, খামার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় হিলি পৌর এলাকার জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী খামারিদের গাভী পালন, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম প্রজনন এবং আধুনিক খামার পরিচালনা বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে সার্বিক দায়িত্ব পালন ও সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের জয়পুরহাট অঞ্চলের এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, বর্তমানে খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক খামারি এখনও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গাভী পালন ও লাভজনক খামার পরিচালনার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত জাতের গাভী উৎপাদনে কৃত্রিম প্রজননের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্র্যাকের উন্নতমানের সিমেন ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক দুধ উৎপাদনকারী ও স্বাস্থ্যবান গবাদিপশু পাওয়া সম্ভব, যা খামারিদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে সহায়ক হবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া খামারিরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেক বিষয় রয়েছে যা তারা আগে জানতেন না। বিশেষ করে গাভীর খাদ্য তালিকা, রোগ প্রতিরোধ ও বাছুর পরিচর্যা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন তারা।
খামারি রাজু আহম্মেদ বলেন, “আমরা সাধারণত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে গাভী পালন করি। কিন্তু আজকের প্রশিক্ষণে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছি। সঠিক নিয়মে খামার পরিচালনা করলে খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ানো সম্ভব।”
অন্য খামারি তাহেরা বানু বলেন, “গাভীর সঠিক যত্ন, টিকা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণটি খুবই কার্যকর ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন হলে আমরা আরও উপকৃত হবো।”
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ী তিনজন খামারির হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।














