সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:১৫:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
উত্তরের জেলা নেত্রকোনায় পৌষ মাসের শুরুতেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় কিনতে শহরের ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোনা শহরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকান। সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, শাল ও কম্বলের নানা সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এসব দোকানে ছুটছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে নেত্রকোনায় দিনের তাপমাত্রা ১৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও রাতের তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভোর ও গভীর রাতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ফুটপাতের দোকানে গরম কাপড় কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, শীত বাড়ায় পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক কিনতেই তারা এসব দোকানে আসছেন। তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে কাপড় পাওয়া যায় বলেই ফুটপাতের দোকান তাদের বেশি পছন্দ। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছু কিছু শীতবস্ত্রের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ক্রেতা সীমা আক্তার বলেন, “বাজারের দোকানে দাম অনেক বেশি, তাই ফুটপাত থেকেই কিনছি। মান মোটামুটি হলেও নতুন কাপড়ের দামের কারণে বাধ্য হয়েই এখানেই আসতে হচ্ছে।”
অন্য ক্রেতা আবু বকর জানান, “শীত যত বাড়ছে, ততই গরম কাপড়ের প্রয়োজন বাড়ছে। পরিবার নিয়ে শীত মোকাবিলায় ফুটপাতের দোকানই ভরসা।”
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। শীতবস্ত্র বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত ১০টা–১১টা পর্যন্ত ক্রেতার ভিড় থাকে। আরেক বিক্রেতা মো. মনির হোসেন বলেন, “এ বছর পাইকারি বাজারে কাপড় ও অন্যান্য পণ্য আগের তুলনায় এক থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাই খুচরা দাম কিছুটা বাড়তি।”
পৌষের এই কনকনে শীতে ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোই এখন নেত্রকোনার নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বড় ভরসাস্থল। শীত যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে মানবিকতার সবচেয়ে বড় উষ্ণতা।




















