জাতীয়

নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তৎপর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র কারবারিরা

  বিশেষ প্রতিবেদক ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:১৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা: নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র কারবারিরা। নির্বাচনী মাঠে শক্তি প্রদর্শন এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র মজুত করছে অস্ত্রবাজরা। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে, তাদের কাছেই বেশি অস্ত্র যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এসব অস্ত্রের কেনাবেচা নগদ অর্থে নয়; বরং পণ্যের বিনিময়ে হয়। বিদেশ থেকেই মূলত অস্ত্রগুলো দেশে প্রবেশ করছে। ছোট ধরনের অস্ত্র ভারত ও পাকিস্তান থেকে আসলেও বড় ধরনের অস্ত্র—যেমন এম-১৬ ও একে-৪৭—আনা হচ্ছে মিয়ানমার থেকে।

সীমান্তপথ ও সরবরাহ চেইন

ভারত থেকে আগরতলা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রের চালান দেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত পার হওয়ার পর এসব অস্ত্র প্রথমে নির্দিষ্ট অস্ত্র কারখানায় নেওয়া হয়, এরপর সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী সন্ত্রাসী বা আন্ডারওয়ার্ল্ড সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসে পার্বত্য অঞ্চল, নাক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

সিন্ডিকেট ও খরচ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্ত্র সরবরাহকারী জানান, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে সব ধরনের অস্ত্রই দেশে আসে। একটি অস্ত্র সরবরাহ করতে গড়ে খরচ পড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। পাঁচটির কম অস্ত্র সরবরাহ করা হয় না, ফলে প্রতি চালানে খরচ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ টাকা।

তিনি বলেন, অস্ত্রের উৎস থেকে দেশে আনা পর্যন্ত অন্তত দুইটি সিন্ডিকেট কাজ করে। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানে আলাদা একটি সিন্ডিকেট যুক্ত হয়। এরপর মূল ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আরও দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে।

পণ্যের বিনিময়ে অস্ত্র

অস্ত্র আমদানিতে নগদ অর্থের লেনদেন হয় না বলে জানান ওই সরবরাহকারী। ভারত থেকে অস্ত্র আনা হয় স্বর্ণের বার বা ইলিশ মাছের বিনিময়ে। মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসে চাল, ডাল কিংবা আলু-পেঁয়াজের বিনিময়ে। এই পুরো লেনদেন পরিচালিত হয় ‘টোকেন ব্যবস্থা’য়।

ভারত সীমান্তে অস্ত্র বোঝাতে ব্যবহার করা হয় ‘ঘোড়া’ মার্কা টোকেন। মসলার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় ‘হাতি’ মার্কা টোকেন। ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত।

নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে চাহিদা

আন্ডারওয়ার্ল্ড সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন তাদের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রচারণা বা শক্তি প্রদর্শনের জন্য পাঁচজন লোক বা পাঁচটি অস্ত্র চাওয়া হচ্ছে। তবে ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা সমমূল্যের পণ্য না পেলে অস্ত্র সরবরাহ করা হয় না।

তিনি আরও জানান, ছয় মাস আগেই দেশে বড় পরিসরে অস্ত্র মজুত করা হয়েছে। এখনও কিছু চালান আসছে, তবে যাদের প্রয়োজন তারা আগেভাগেই অস্ত্র সংগ্রহ করে রেখেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে গুলির।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কা

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ম্লান হয়ে যেতে পারে গণতান্ত্রিক ভোটের উৎসব।

আরও খবর

Sponsered content