জাতীয়

সাংবাদিকতা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে: পিআইবি মহাপরিচালক

  প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৪:৩২:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকতা আজ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতা যদি তার হারানো মর্যাদা, সততা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার মোকাবিলায় ফ্যাক্ট চেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী জেলা সমবায় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবির মহাপরিচালক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে দেশের সাংবাদিকতা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করার প্রবণতায় সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।’ এ ধরনের প্রবণতাকে তিনি ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি এখন সাংবাদিকতা শিক্ষার আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অনেক সময় মূলধারার গণমাধ্যমও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে ভুল তথ্য প্রকাশ করছে। এর পেছনে ‘কনফার্মেশন বায়াস’ বড় কারণ। মানুষ আগে থেকে যা বিশ্বাস করে, সেটিকেই সহজে সত্য হিসেবে গ্রহণ ও ছড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে নারী নেত্রীরা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।’

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘একজন সাংবাদিক শুধু সংবাদ সংগ্রহ করেন না; তিনি সমাজ পর্যবেক্ষক, গবেষক ও ইতিহাসের দলিল রচনার অংশীদার। তাই তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা এবং সত্য অনুসন্ধানের বিকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিথ্যা তথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট চেকিং দক্ষতার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারও জরুরি।’

তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর নতুন নিয়োগ না হলেও নিজস্ব জনবল দিয়ে পিআইবি দেশজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পিআইবিকে একটি একাডেমিক এক্সিলেন্স সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হবে।

সাংবাদিকতার ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সহজ ও সরল বাংলায় লেখা সংবাদই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তথ্যের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ মতামত, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শক্তিশালী বয়ান একটি প্রতিবেদনকে সমৃদ্ধ করে।’

কার্টুন বিতর্ক প্রসঙ্গে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘শৈল্পিক স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। ক্ষমতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্টুন হতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করা নৈতিক সাংবাদিকতার পরিপন্থী।’

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী। এসময় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন ও আরইউজের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত।

প্রশিক্ষণে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্তকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর এ প্রশিক্ষণে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

আরও খবর

Sponsered content