প্রচ্ছদ

নদীতে বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ শিকার, বিলুপ্তির পথে জলজ প্রাণীকূল

  স্টাফ রিপোর্টার ২ মার্চ ২০২৫ , ৬:৪৩:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রাতের আঁধারে বা দিনের বেলাতেও চলছে বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ শিকার। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ফলে মাছের সাথে অন্যান্য জলজ প্রাণীও ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই মাছের সাথে অন্যান্য জলজ প্রাণীও বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে গোপনে দিনের বেলায় বা রাতে অহরহ চলছে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার। এ পদ্ধতিতে কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির সাহায্য পানিতে সাময়িক বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। ব্যাটারিগুলো নৌকায় রাখা হয়। এ পদ্ধতিতে পানিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল প্রকার জলজ প্রাণী বৈদ্যুতিক শক প্রাপ্ত হয়। ফলে রেণু মাছ থেকে শুরু করে বড় মাছ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শক প্রাপ্ত হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। অসাধু মাঝিরা তখন একটি চাকতির মতো জাল দিয়ে এসব মাছ পানি থেকে নিজেদের নৌকায় সংগ্রহ করেন। পরে সংগ্রহকৃত মাছগুলো সারিয়াকান্দির যমুনাপাড়ের আড়ৎ বা বগুড়ার বিভিন্ন আড়ৎ এ বিক্রি করা হয়।

এদিকে এ ভয়ানক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ফলে মাছের সাথে অন্যান্য জলজ প্রাণীও মরে পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ফলে এ উপজেলায় দেশী মাছ আর বেশি একটা পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বৌ মাছ, কর্ত্তি মাছ, চান্দা মাছসহ বেশকিছু দেশী প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিছু জেলেরা বলছেন এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ফলে তারা বেড় জালে আর আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়ার ঘাটে দুপর ১ টার দিকে নৌকা ভিড়ানোর সাথে সাথেই গণমাধ্যম কর্মীদের দেখামাত্রই নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় অসাধু জেলেরা। তবে কিছুকিছু নৌকা ঘাটেই বাধা ছিল। সেইসব নৌকাগুলোতে খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায় বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ শিকারের বেশকিছু সরঞ্জামাদি। তার মধ্যে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, এল ই ডি বাল্ব প্রভৃতি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এসব নৌকার মাঝিরা সারারাত মাছ শিকারের পর কেউ মাছ বিক্রি করতে গেছেন, আবার কেউবা রাতের ঘুম দিনের বেলায় পারতে গেছেন।

সচেতন মহল বলছেন, আমাদের উপজেলার যমুনা নদীতে বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ শিকার একেবারেই মহামারি আকারে ধারন করছে। এমনিতেই যমুনায় পানি না থাকায় মাছ একেবারেই কমে গেছে। তার উপরে এভাবে মাছ শিকারের ফলে মাছের সাথে সব ধরনের জলজ প্রাণিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এটি মোকাবেলায় প্রশাসনের ভালো কোনও ভূমিকাও আমরা দেখছি না।

সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন বলেন, মাছ শিকারে এটি একটি ভয়াবহ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে অবশ্যই আমাদের জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং ক্ষতিকর দিক নিয়ে জেলেদের সাথে আলোচনা করতে হবে। এর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অসাধু জেলেদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ রাশেদ মিয়া /এমআই

আরও খবর

Sponsered content