প্রতিনিধি ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৪০:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) আবারও বড় ধরনের চাপে পড়তে যাচ্ছে। আবাসিক (রেসিডেন্ট) চিকিৎসকেরা সরকারের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন ধর্মঘট। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে ব্যাপকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও অস্ত্রোপচার বাতিল হচ্ছে, এমনকি গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এনএইচএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০টি বহির্বিভাগের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও চিকিৎসা প্রদান পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্রোপচার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাও রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ একই সময়ে দেশজুড়ে তীব্র ফ্লু সংক্রমণের ঢেউ হাসপাতালগুলোকে চরম চাপে ফেলেছে।
সরকারের প্রস্তাব নিয়ে পরিচালিত জরিপে ৮৩ শতাংশ রেসিডেন্ট চিকিৎসক তা প্রত্যাখ্যান করেন। চিকিৎসকদের সংগঠন ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) প্রস্তাবটিকে “অপ্রতুল ও বিলম্বিত” বলে অভিহিত করেছে। ফলে ১৭ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৭টা থেকে নির্ধারিত পাঁচ দিনের ধর্মঘট শুরু হবে।
এই অবস্থায় রোগী কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সরকার ও বিএমএ—উভয় পক্ষকে স্বাধীন মধ্যস্থতার পথে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পেশেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী র্যাচেলপাওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের কারণে রোগী, চিকিৎসক এবং হাসপাতাল—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাই এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এনএইচএসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এবারের ধর্মঘটে আগের তুলনায় হাসপাতালগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জরুরি নয়—এমন চিকিৎসার অন্তত ৯৫ শতাংশ সচল রাখার যে লক্ষ্য আগে ছিল, এবার তা পূরণ করাও কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, কনসালটেন্ট চিকিৎসকদের জুনিয়রদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শীতকালীন বাড়তি রোগী ভর্তির প্রস্তুতিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং ধর্মঘটের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে একে “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে চিকিৎসকদের বেতন প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে এবং নতুন করে ২৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি এই সপ্তাহে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।
তবে বিএমএ সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির রেসিডেন্ট চিকিৎসক কমিটির চেয়ারম্যান ডা. জ্যাক ফ্লেচার বলেন, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ আসন বৃদ্ধি বাস্তবে নতুন চিকিৎসক তৈরি করবে না, বরং বিদ্যমান সংকটই বাড়াবে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুযোগ ও ন্যায্য বেতন না থাকায় অনেক চিকিৎসক বেকার থাকছেন বা পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে এনএইচএস কনফেডারেশন সতর্ক করে বলেছে, রেকর্ড মাত্রার ফ্লু সংক্রমণের মধ্যে ধর্মঘট রোগীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে গুরুতর ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬০ ছাড়িয়েছে, যা বছরের এই সময়ে সর্বোচ্চ। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকাল ও বড়দিনের আগে এই ধর্মঘট এনএইচএসের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় তৈরি করছে। দ্রুত সমাধান না এলে রোগীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।




















