জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক, জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা

  প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:২৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানি প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা ইরনা এবং বাংলাদেশি বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের দ্রুত সমাধান চায়। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সে প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের মতো নিরপেক্ষ ফোরামে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ কর্মী কাজ করেন। কিন্তু সেখানকার চলমান সংঘাতের কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্সে প্রভাব ফেলছে। এটি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’

হরমুজ প্রণালিতে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংঘাতের দ্রুত সমাধান চান বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের সমাধান হওয়ার পর হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ যাতে চলাচল করতে পারে, সে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা যাতে গভীর জ্বালানি সংকটে না পড়ি সে ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এসব অনুরোধ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

তিনি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার অন্য অংশীদারেরাও বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে দেশটিকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান সেই দায়িত্ব নিয়েছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ‘নরম মধ্যস্থতাকারী প্রভাব’ হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্বে রেখে ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইরানের নেতার সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content