প্রতিনিধি ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:০২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়। মালিকানা যাচাইয়ের পর তাকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
আটক আব্দুল হান্নানের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা-পশ্চিমপাড়ার গ্রামের বাড়িতে তালা ঝুলানো রয়েছে। এবং তার বাড়ির আশেপাশে বেশকিছু উৎসুক মানুষকেও ভিড় করতে দেখা গেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে র্যাব-২ আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করেছে।
স্থানীয়রা জানান, আবুল কাশেম ও ফুরকন বেগমের ছেলে বড় ছেলে আব্দুল হান্নান। প্রায় ৪০ বছর আগে হান্নানের বাবার সঙ্গে তার মায়েরবিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে আর্থিক অসচ্ছলতায় পড়েন ফুরকন বেগম। দুই ছেলে আব্দুল হান্নান ও সোহেল রানাকে কষ্ট করে মানুষ করেছেন তিনি। স্থানীয়দের সাহায্য-সহযোগিতাতেই তাদের পরিবার চলেছে।
সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আব্দুল হান্নান পড়ালেখা করতে পারেননি। ছোট থেকেই তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত কয়েক বছর আগে তার পরিবারে আগের থেকে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আব্দুল হান্নান তার মাকে নিয়ে পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি গরিব ঘরের সন্তান, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘হান্নানের পরিবার খুবই নিরীহ। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর পারিবারিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। তার মা মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। আব্দুল হান্নান রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। আমার জানা মতে, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।’
তিনি বলেন, ‘হান্নান এক মাস আগেই তার মাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। যে কারণে তার গ্রামের বাড়িতে এখন তালা দেওয়া।’
অপর প্রতিবেশি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘বছরে কয়েকবার গ্রামের বাড়িতে আসেন হান্নান। তিনি একবার যখন এলাকায় এসেছিল তাকে মোটরসাইকেল চালাতে দেখেছি। এই মোটরসাইকেলটি ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টার কাজে ব্যবহৃত কি-না, তা আমরা জানি না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনারা যা দেখেছেন, আমরাও তাই দেখেছি। আমাদের কাছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখনো কোনো তথ্য চাননি। এরপরেও আমরা তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্তি জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘এখনো আব্দুল হান্নাননের বিষয়ে সম্পূর্ণ খোঁজ পাইনি। তার দিয়ে এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি-না, আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হবে।’





















