সারাদেশ

খালিয়াজুরীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার এডহক কমিটি স্থগিত

  সোহেল খান দূর্জয় , নেত্রকোনা প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:১৫:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠায় মাদরাসার নবগঠিত এডহক কমিটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বোর্ড থেকে একটি এডহক কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন। তবে ওই কমিটিতে মো. আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তিকে সভাপতি করা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপত্তি ওঠে। অভিযোগকারী খালিয়াজুরী নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মৃত আমিরুল চৌধুরীর ছেলে আলী হামজাদ আকন্দ। তার দাবি, মাদরাসার সুপার অত্যন্ত কৌশলে একজন ‘দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে সভাপতি পদে বসিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এর আগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনওকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু মাদরাসার সুপার নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পুনরায় আব্দুস সালামকে সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনেন।

অভিযোগকারীর দাখিল করা অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদরাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ প্রতিষ্ঠানের জলমহাল ও জমি ইজারা দিয়ে প্রাপ্ত প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই বড় অঙ্কের টাকার হিসাব আড়াল করতেই তিনি নামকাওয়াস্তে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান এডহক কমিটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হলো এবং বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খালিয়াজুরী ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হাসান পিন্টু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাদরাসা একটি ধর্মীয় শিক্ষালয়। এখানে কোনোভাবেই কোনো বিতর্কিত লোককে এডহক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। এই মাদরাসার সুপার ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এখন নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই তিনি স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।”

তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসা সুপার হারুন-অর-রশিদ বলেন, “মাদরাসার এত টাকা আয় নেই যে, আমি তা আত্মসাৎ করতে পারব। আমার বিরুদ্ধে আনা এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, এ ব্যাপারে তিনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হাতে পাননি। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকেও কোনো চিঠিপত্র বা অনুলিপি তার দপ্তরে পৌঁছেনি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

আরও খবর

Sponsered content