প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৩৭:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর গ্রামের এক মাসের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম পাঁচ কন্যার পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।
সম্প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ‘এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে!’—শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদটি দেখার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে উক্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া ও সহায়তা প্রদানের জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশনা দেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ শুক্রবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের বাড়িতে যান।
প্রতিনিধি দলটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতা জানান এবং এতিম পাঁচ কন্যার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ গঠিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এই পরিবারের চরম দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নেতার নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তার পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বারতাই আমরা আজ পৌঁছে দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আবদুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও ঋণের বোঝার চাপে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারান কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম। প্রথমে ফরিদা বেগমের মৃত্যুর পর এর এক মাসের মাথায় নিজ বসতঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্বামী আবুল কালাম আজাদের মরদেহ। মা-বাবাকে হারিয়ে হঠাৎ দিশেহারা হয়ে পড়া এই পাঁচ এতিম বোনকে সহায়তায় এগিয়ে এলো সংগঠনটি।





















