আন্তর্জাতিক

ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন হামলাকারী, দাবি নেতানিয়াহুর

  প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ৯:১৩:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বুধবারের ওই ঘটনায় আকাশে থাকা বিমানটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। এরপর সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর মধ্যে ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রভাব’ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং পরিস্থিতি দেখে ‘খুব সম্ভবত’ সে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিল।

তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে বেঁধে ফেলার পর সে বিমানের কর্মীদের বারবার ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিল। এতে তার আত্মঘাতী প্রবণতার বিষয়টি স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানটি আমিরাতে নিবন্ধিত এবং দেশটির পতাকাবাহী হওয়ায় ঘটনাটির তদন্তের এখতিয়ার নিজেদের বলে দাবি করেছে আমিরাতের কর্মকর্তারা।

বিমানটি জরুরি অবতরণের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আহত পাইলট ও কো-পাইলটকে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমিরাতের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি তেহরানকে দায়ী করা হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসরায়েলি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিরাপত্তা সূত্র বিবিসি আরবিকে জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি বিধ্বস্ত করা। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে তেল আবিবে পৌঁছানো যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানটিতে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন।

উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটির উচ্চতা ১৭ হাজার ফুটের বেশি কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কয়েক মিনিট পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়। প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটে বিমানটি কিছু সময়ের জন্য জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সৌদি আরবের দিকে ফিরে যায়। পরে ম্যানুয়াল অবতরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার তদন্ত চলাকালে দুবাই-তেল আবিব রুটের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ফ্লাইদুবাই। ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুবাইয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার থেকে উদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আল, ইসরায়ার ও আরকিয়া। পাশাপাশি আবুধাবি-তেল আবিব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়।

ঘটনায় আহত ভারতীয় নাগরিক ও বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে মাচ্ছারের সঙ্গে দেখা করেন। ভারতীয় মিশন জানিয়েছে, তিনি ভালো আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

আরও খবর

Sponsered content