প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:২৪:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে গভীর সমুদ্রে বিকল হয়ে পড়া একটি বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১ জন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং বাকি ৬৫ জন প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত টহলকালে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ এ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, মাছ ধরার ট্রলার ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি কাঠের বোটকে ভাসতে দেখে সহায়তার জন্য এগিয়ে যায়। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে ট্রলারটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নৌবাহিনীকে অবহিত করে। খবর পেয়ে কাছেই টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা দেখতে পান, কাঠের বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে সেটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌ সদস্যরা দ্রুত বোট থেকে পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ৬৫ জন ভুক্তভোগীর অধিকাংশই পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় বন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে তুলে দেওয়া হয়। আটক ১১ পাচারকারীসহ উদ্ধারকৃতদের ও জব্দকৃত বোটটিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
নৌবাহিনীর সময়োচিত এ পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য প্রাণহানির হাত থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে। সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষা, মানব পাচাররোধ ও যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।















