সারাদেশ

শখের পাখি পালন থেকে সফল উদ্যোক্তা রাণীশংকৈলের মোশাররফ

  হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:৪৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রঙিন পালকের মায়া তাকে টেনে নিয়েছিল শুধু শখের দুনিয়ায়। সেই শখই আজ তাকে পরিণত করেছে এক সফল উদ্যোক্তায়। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার তরুণ মোশাররফ হোসেন এখন বিদেশি ও দেশি পাখি পালন করে স্বাবলম্বী। তার বাড়ির আঙিনাজুড়ে এখন নানা প্রজাতির পাখির কিচির–মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে, যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।

উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের সহদোর গ্রামের ইউপি সদস্য তহরুম আলী (মেম্বার) এর ছেলে মোশাররফ আগে শখ করে শুধু বিদেশি পাখি সংগ্রহ ও লালন–পালন করতেন। ধীরে ধীরে সেই শখ বড় আকারের খামারে রূপ নেয়। এখন তা তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও নতুন স্বপ্ন ছোঁয়ার পথ।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোশাররফের পাখির খামারে রয়েছে শান কনুর, পাইনঅ্যাপেল কনুর, কনুর, সোনালি ময়না, নানান রঙের কোকাটেল, লাভবার্ডসহ বেশ কয়েক প্রজাতির দেশি–বিদেশি পাখি। পাখির পাশাপাশি তিনি শখের বসে আমেরিকান লাতামেক্স (ল্যাব্রাডর টাইপ) কুকুর ও পার্সিয়ান জাতের বিড়ালও পালন করছেন। এগুলো দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার বাড়িতে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, পাখি পালনে মোশাররফের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম সত্যিই অনুকরণীয়। তার উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকার তরুণদের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।

মোশাররফ হোসেন জানান, “গত পাঁচ বছর ধরে এই খামারটি করছি। শুরু করেছি একেবারেই শখের বসে; এখন এটি আমার পেশা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ার ইচ্ছে আছে। যদি সরকারিভাবে সহায়তা পাই, তাহলে এলাকার অনেক বেকার যুবককে এ খাতে যুক্ত করতে চাই।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুপম চন্দ্র মহন্ত বলেন, “পাখির সাধারণত বড় ধরনের রোগবালাই কম হয়। সঠিক যত্নে তুলনামূলক কম খরচে অল্প সময়ে বড় করা যায়—এ কারণে পাখি পালন লাভজনক। আমরা মোশাররফসহ এ ধরনের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সম্প্রতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ মেলায় মোশাররফের স্টলে প্রথম তার পাখি দেখি। আজ আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার ছোট ভাগ্নের জন্য এখান থেকে পাখি কিনতে এসেছি। তার খামার দেখে খুব ভালো লেগেছে। এ ধরনের উদ্যোগ যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং বেকারত্ব দূর করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

শখের টানে শুরু হলেও এখন মোশাররফের পাখির খামার রাণীশংকৈলের তরুণদের জন্য সম্ভাবনা ও অনুপ্রেরণার এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে।

আরও খবর

Sponsered content