খেলাধুলা

কাউন্টির সাফল্য নিয়ে আফগানিস্তান টেস্টের অপেক্ষায় খালেদ

  প্রতিনিধি ৪ অক্টোবর ২০২৬ , ১:২২:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলে বাংলাদেশের টেস্ট দলে যোগ দেওয়ার পর আরব আমিরাতের গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন পেসার খালেদ আহমেদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সামনে রেখে আবুধাবিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হবে ম্যাচটি।

কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তিন ম্যাচে ১৬ উইকেট নেওয়া খালেদ এখন টেস্ট দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরার কারণে পুরো বোলিং ছন্দে ফিরতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খালেদ বলেন, ‘অভিজ্ঞতাটা আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো ছিল। আমি অনেক দিন খেলার বাইরে ছিলাম। এরপর সুযোগ এল এবং কাউন্টিতে খেলার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। সেখানে যাওয়ার পর শুরুতে ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু কঠিন হয়েছিল। তবে খেলা শুরু করার পর আলহামদুলিল্লাহ, ভালোই হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে সব জায়গার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আগেও বলেছি, ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখানে দুবাইয়ে অবশ্যই গরম। তাই এখানকার পরিবেশের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে।’

গরমের কথা মাথায় রাখলে সেটিই সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে খালেদ বলেন, ‘গরমের বিষয়টি মাথায় রাখলে সমস্যা হবে। আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ বোলিং করেছি, গতকাল দৌড়েছি। তাই প্রায় মানিয়ে নিয়েছি।’

পুরো বোলিং ছন্দে ফিরতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো এক-দুই দিনের মধ্যে বোলিংয়ে পুরো ছন্দ ফিরে পাব। গরম হোক বা ঠান্ডা, কোনো অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সবসময় মাঠে ক্রিকেট খেলার কথাই ভাবতে হয়। আমিও সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

কেন্টের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য বড় শেখার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন খালেদ।

এই পেসার বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি, ক্রিকেট সম্পর্কে যখন বুঝতে শুরু করি, তখন স্বপ্ন ছিল একদিন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চার দিনের প্রতিযোগিতা বা টি-টোয়েন্টি লিগে খেলব। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট আমার জন্য খুব ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। যখন সুযোগ পেলাম, খুব খুশি হয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে যাওয়ার আগে আমি দীর্ঘ সময় কোনো ম্যাচ খেলিনি। সেখানে পৌঁছেও প্রথম ম্যাচে খেলতে পারিনি। অধিনায়ক ও কোচেরা আমাকে বলেছিলেন, এখানে আসার পর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা বিষয় আছে। তাই আগে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে। পরের ম্যাচ থেকে খেলতে পারব।’

শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেছেন খালেদ। তিনি বলেন, ‘শুধু খেলা নয়, খেলার বাইরেও তাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে অনেক আনন্দ করেছি। তারা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দ্বিতীয় একাদশের চার দিনের ম্যাচ চালু করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালেদ। কাউন্টি ক্রিকেটের মতো এই ধরনের ম্যাচ বেশি হলে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।

খালেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণির দলের জন্য এখন ব্যাগি ক্যাপ দেওয়া হচ্ছে—এটা যখন শুনেছিলাম, তখন খুবই খুশি হয়েছিলাম। আমরা যেহেতু টেস্ট খেলুড়ে দেশ, তাই আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যদি টেস্ট ক্রিকেটের মতো করে সাজানো যায়, তাহলে খুব ভালো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোশাকের বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, খেলাতেও এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। আমি বলব, এই উদ্যোগ এখন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এটি চালু থাকা উচিত, যাতে আরও নতুন খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে।’

দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচগুলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরও ছন্দে ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন খালেদ। তার ভাষায়, ‘এখানে কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে বা কোনো খেলোয়াড় ফর্ম হারালে প্রথম একাদশ থেকে দ্বিতীয় একাদশে গিয়ে খেলতে পারবে। সেখানে খেলে আবার ফর্ম ফিরে পেয়ে প্রথম একাদশে ফিরতে পারবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে খালেদ বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি বোর্ডকে অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ এখন আমাদের ক্রিকেট আরও উঁচু পর্যায়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের দেশে টেস্ট ক্রিকেটকে আরও অনেক উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাব।’

আরও খবর

Sponsered content