প্রতিনিধি ৫ জুন ২০২৬ , ১০:২২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফুটবলের বহু কিংবদন্তি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় এক বারের বেশি এই পুরস্কার জিততে পারেননি। এবারের আসরে তিন তারকার সামনে রয়েছে সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ, যদিও বাস্তবিকভাবে তাদের মধ্যে দুজনকে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যানুযায়ী, এবার বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং জেমস রদ্রিগেজ এই তিন তারকা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে, কার সম্ভাবনা কতটা এবং কারা হতে পারেন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সেটিই এখন ফুটবল ভক্তদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
হ্যারি কেইন
গোল করার ক্ষেত্রে হ্যারি কেইনের সাফল্যের তালিকা সত্যিই ঈর্ষণীয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। এছাড়া ইউরো ২০২৪-এ যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের মালিক হওয়ার পাশাপাশি তিনবার জিতেছেন প্রিমিয়ার লীগের গোল্ডেন বুট। এই বিশ্বকাপের আগে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন। ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে তিনি ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন শু পুরস্কারও জিতেছেন।
এবার ইংল্যান্ড অধিনায়ক হিসেবে টমাস টুখেলের অধীনে মাঠে নামবেন তিনি। যদিও কাতার বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; সেখানে মাত্র দুই গোল করেছিলেন এবং কোয়ার্টার ফাইনালেই ইংল্যান্ড বিদায় নেয় ফ্রান্সের কাছে হেরে। তবে ইংল্যান্ডকে এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের গোলের পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করতে মুখিয়ে থাকবেন কেইন।
কিলিয়ান এমবাপ্পে
২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকও ফ্রান্সকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। তবে লুসাইল স্টেডিয়ামে করা সেই তিন গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা আবারও গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। ফ্রান্সকে এবারও শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। তিনি সফল হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একাধিকবার গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হবেন।
এবারের আসরে আরও পাঁচ গোল করতে পারলে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের আসরগুলোতেও নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
আর্লিং হলান্ড
এবার তৃতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৩৫ ম্যাচে ২৭ গোল করে আবারও নিজের গোল করার অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্য দেখানোর পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আলো ছড়ানোর পালা নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের। তবে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করবে নরওয়ে কত দূর পর্যন্ত টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পারে তার ওপর।
কেননা ফ্রান্স, সেনেগাল ও ইরাককে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপে খেলতে হবে নরওয়েকে। এ ছাড়া ২৫ বছর বয়সী হলান্ডই হবেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে করা ১৬ গোলের সঙ্গে আরও যোগ করতে মুখিয়ে থাকবেন তিনি। সেই ১৬ গোলের মধ্যে মলদোভার বিপক্ষে এক ম্যাচেই করেছিলেন পাঁচ গোল।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এখনো তার অর্জনের তালিকায় নেই। কাতার বিশ্বকাপে তিনি সাত গোল করেছিলেন, কিন্তু ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত গোলযুদ্ধে পিছিয়ে পড়ায় সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার হাতছাড়া হয় তার।
৩৮ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। তাই ফুটবল বিশ্বের এই ‘ক্ষুদে জাদুকর’ শেষবারের মতো নিজের জাদু দেখানোর অপেক্ষায় থাকবেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি আট গোল করেছেন, যার মধ্যে বলিভিয়ার বিপক্ষে ছিল একটি হ্যাটট্রিক। ‘লা পুলগা’খ্যাত মেসি কি এবারও বিশ্বকে চমকে দিতে পারবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে উত্তর আমেরিকার মঞ্চে।
লামিন ইয়ামাল
বিশ্ব ফুটবলের নতুন সেনসেশন লামিন ইয়ামালও রয়েছেন আলোচনায়। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই তার বয়স হবে মাত্র ১৯ বছর। তবে বয়স কম হলেও বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সামর্থ্য ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
৪১ বছর বয়সেও গোল করার ক্ষুধা হারাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে তার সামনে। পর্তুগালের আক্রমণভাগে ব্রুনো ফার্নান্দেজসহ একাধিক সৃজনশীল ফুটবলার থাকায় রোনালদোকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের অভাব হবে না।
ভিনিসিয়ুস
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গত কয়েক মৌসুমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ব্রাজিল কত দূর যেতে পারে তার ওপর। দল ভালো করলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে থাকতে পারেন তিনি।
উসমান দেম্বেলে
কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলেও ফ্রান্সের হয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে সুযোগের অভাব না থাকায় গোলের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে পারে তার।
মার্টিনেজ ও আলভারেজ
লিওনেল মেসির বাইরে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো ২০২৪ কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। অন্যদিকে আলভারেজও ইউরোপীয় ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন।




















