আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪০:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৪ নম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তার স্বামী ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওইদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত শীলা আক্তারের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদী হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে শীলা আক্তারকে মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
নিহত শীলা আক্তার তিন কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন। তার বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন কারণে মারুফ তার মেয়েকে মারধর করতেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।





















