মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৩০ জুন ২০২৬ , ১২:৩৩:২০প্রিন্ট
সংস্করণ
হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সম্ভাব্য পুশ-ইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় কৃষক, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়।
সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে পুশ-ইনের অপচেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাটালিয়নের অধীন ১৬টি বিওপিতে ২৪ ঘণ্টার টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় উঠান বৈঠক, মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় চা শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির সঙ্গে কাজ করছেন এবং সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত জানাচ্ছেন। এ সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেনি।
বিজিবির তথ্যমতে, গত ২৭ ও ২৮ জুন রাতে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং গুইবিল সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একাধিক পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবির টহল দল দ্রুত প্রতিহত করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান বলেন, “হবিগঞ্জ সীমান্তে আমরা একা নই। বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাই একসাথে একটি অটুট সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি। দেশের সীমান্ত রক্ষায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের এই দেশপ্রেমই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিটি ইঞ্চি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি। যেকোনো ধরনের পুশ-ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলা সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।