প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ৯:২২:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে জাপান-ব্রাজিল ম্যাচটি। নকআউট পর্বে কোনো ভুল করলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত, তাই সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। যদিও পরিসংখ্যান, র্যাঙ্কিং ও অতীতের রেকর্ড ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে, তবে সবশেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের জয়ের স্মৃতি এই লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। বেশ কয়েকটি বিশেষ কারণে আজকের এই নকআউট ম্যাচে জাপান ব্রাজিলের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমত, হাজিমে মোরিয়াসুর ‘জায়ান্ট কিলিং’ ট্যাকটিক্স ও কাউন্টার অ্যাটাক। বর্তমানে জাপান যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলে তার মাস্টারমাইন্ড কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কম পজেশন রেখে দ্রুততম সময়ে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন জাপানিজ ফুটবলাররা। পরিসংখ্যান বলছে, এই কৌশলে জাপান বেশ সফল। সর্বশেষ বিশ্বকাপে জার্মানি এবং স্পেনকে হারানোর ম্যাচে জাপানের বল পজেশন ছিল যথাক্রমে মাত্র ২৬% এবং ১৮%। বল পায়ে না রেখেও নিখুঁত ডিফেন্সিভ ব্লক এবং উইং-স্পিড দিয়ে কীভাবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে হয়, তা মোরিয়াসু একাধিকবার প্রমাণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞতা। একসময় জাপানি স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ঘরোয়া জে-লিগে খেলতেন, তবে বর্তমান দলটির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখনকার জাপানি স্কোয়াডের প্রায় ৮০ শতাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন এবং নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন। রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে লা লিগা কাঁপাচ্ছেন তাকেফুসা কুবো, মোনাকোর হয়ে লিগ ওয়ানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তাকুমি মিনামিনো, এবং স্টুটগার্টের উইঙ্গার হিসেবে খেলেন রিতসু দোয়ান। ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত খেলার কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো খেলোয়াড়দের শক্তির জায়গা ও দুর্বলতাগুলো তাদের অজানা নয়।
তৃতীয়ত, জাপানের মাঝমাঠের প্রধান দুই স্তম্ভ লিভারপুলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ওয়াতারু এনদো এবং ডুসেলডর্ফের আও তানাকার ভূমিকা। ফিফার ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই দুই মিডফিল্ডার প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে প্রায় ১১.৮ কিলোমিটার পথ দৌড়ান। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তাদের এই হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং ব্রাজিলের মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের খুব একটা সময় দেবে না। মাঝমাঠের এই নিরবচ্ছিন্ন চাপ ব্রাজিলের বিল্ড-আপ প্লে-কে শুরুতেই ভুলের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
চতুর্থত, সেট-পিস ও এরিয়াল বলে জাপানের নিখুঁত রেকর্ড। আধুনিক ফুটবলে অনেক ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় সেট-পিস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপান তাদের শেষ ১০টি আন্তর্জাতিক গোলের ৩১% পেয়েছে কর্নার, ফ্রি-কিক কিংবা ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে। বিশেষ করে জুনিয়া ইতো এবং তাকেফুসা কুবোর বাঁকানো ক্রস এবং বক্সে কো ইতাকুরা বা হিরোকি ইতোদের মতো দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের এরিয়াল হেড নেওয়ার ক্ষমতা দুর্দান্ত। অন্যদিকে, ব্রাজিলের রক্ষণভাগের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো সেট-পিস এবং ক্রস থেকে গোল হজম করা। রোজ বোলের বড় মাঠে এই সেট-পিস আজ মোরিয়াসুর দলের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে।
পঞ্চমত, তারকা-নির্ভরতার বাইরে গিয়ে ‘কালেক্টিভ ফুটবল’। জাপানের মূল শক্তি হলো তাদের দলগত সংহতি। গত এক বছরে জাপানের গোল স্কোরের খাতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের কোনো নির্দিষ্ট ১ বা ২ জন স্ট্রাইকারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে বদলি হিসেবে নামা উইঙ্গার—সবাই গোল করছেন। স্কোয়াডে কোনো একক মেগা-স্টার না থাকায় ব্রাজিলের জন্য জাপানের কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ম্যান-মার্ক করার কৌশল খাটবে না।




















