শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা যুক্ত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ৯:০৭:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ আরও কিছু ভাষা সিলেক্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, যে ভাষা শিখলে দেশে বা বিদেশের যেকোনো জায়গায় গেলে যেন শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। তাই বিভিন্ন ভাষা আমরা তোমাদের শেখাতে চাই, যার সাথে ইনোভেশন বা উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় থাকবে।

আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাসের মধ্যে বিভিন্ন খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করব। এতে যার যে খেলায় আগ্রহ ও দক্ষতা রয়েছে, সে সেই খেলায় আরও বেশি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমরা কারিগরি শিক্ষা চালু করতে চাই। এটি একটি বাড়তি দক্ষতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যোগ হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, কিন্তু পরে থাকব না। তবে তোমরা থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। আমাদের প্রতিটি কাজের এমন একটি সুনির্দিষ্ট আউটপুট থাকতে হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্য সব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইনোভেশন নিয়ে আসা হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। এ সময় পাশে বসা শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মধ্যে যে দক্ষতাগুলো রয়েছে, সেগুলো বের করে আনার পরিকল্পনা আমরা ১০ বছর ধরে করছি। মাহদী আমিন যখন অক্সফোর্ডে পড়ত, তখন আমরা বসে বসে ভাবতাম যে, যখন আমরা দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাব, তখন এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেলের অংশবিশেষ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি ভিডিওচিত্রও উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। অনুষ্ঠানে সারা দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বক্তব্য দেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং এমন আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে ১২ জুন সারা দেশে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা, জেলা ও জাতীয়—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আরও খবর

Sponsered content