মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৩৭:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পুরান ঢাকার তাতিবাজার প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও প্রতিবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— “নির্বাচনের প্রথম খুন”, “হারার ভয়ে মানুষ খুন”, “তারেক তুই জবাব দে—আমার ভাই মরল কেন”, “বিএনপির অনেক গুণ—হারার ভয়ে মানুষ খুন” এবং “আমার ভাই শহিদ কেন—তারেক তুই জবাব দে”। এসব স্লোগানের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ভিন্নমতের কারণে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন রক্তপাত ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু একটি পক্ষ দেশে আবারও সহিংস রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেছে। এ ধরনের রাজনীতি ছাত্রসমাজ কখনোই মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা করেছিলাম, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।
জবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, দেশে একটি সন্ত্রাসী শক্তির উত্থান ঘটছে। এদের প্রতিহত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চলমান রাজনৈতিক ধারা থেকে সরে এসে নতুন রাজনীতির পথে না এলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
এ সময় শিবির নেতা সোহাগ আহমেদ বলেন, শেরপুরে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার অভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক শেখ ফেরদৌস বলেন, এখনো সময় আছে—জনগণের মনোভাব বুঝে রাজনীতি করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিকভাবে ছিটকে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের।




















