প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১:১৮:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ি হুড।
তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুডের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ট্রাম্প নিজেই নষ্ট করেছেন। এখন তাকে আগের চেয়েও অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী একটি সমঝোতা অর্জন করতে হবে।
হুড বলেন, ট্রাম্পের সামনে এখন শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করার বিষয়টি নেই। এর পাশাপাশি ইরান যেন হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে আসে, সেই নিশ্চয়তাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে গেলে এর প্রভাব ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাই একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো ‘অত্যন্ত কঠিন কাজ’। তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন হুড। তার মতে, কূটনীতিই হতে পারে সংকট সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তিনি বলেন, সামরিক সমাধান যদি কার্যকর হতো, তাহলে এতদিনে সেটি কাজ করার কথা ছিল।
আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে সংঘাতে
জোয়ি হুডের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ইতোমধ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ইরান অন্যান্য দেশকে সংঘাতে টেনে এনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন তিনি।
হুডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তেহরানের ধারণা, সংঘাতে আরও দেশ জড়িয়ে পড়লে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র ইরানের পাশে দাঁড়াবে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এই হিসাব ভুল বলে মনে করেন সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক। তার মতে, বিশ্বের অনেক সরকার ট্রাম্পকে পছন্দ না করলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা সহজে ওয়াশিংটনের বিপরীতে অবস্থান নেবে না।
হুড বলেন, এসব দেশের সঙ্গে তেহরানের স্বার্থের মিলও খুব সীমিত। ফলে তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
চীনই হতে পারে ব্যতিক্রম
তবে এ ক্ষেত্রে চীনকে সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন হুড। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীন যদি সংঘাতে আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে আপাতত তার ধারণা, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইরানের অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের নীতিরও সমর্থক নয়।
হুডের মতে, এই দ্বৈত অবস্থানই বর্তমান সংকটের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশ ট্রাম্পকে সমর্থন না করলেও তারা ইরানের পক্ষেও দাঁড়াচ্ছে না। ফলে ইরানকে নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে।





















