সারাদেশ

ঝিকরগাছায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডিংয়ে গড়মিলের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের আশঙ্কা

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ১১ মার্চ ২০২৬ , ২:০০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ


যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় মিটার রিডিংয়ে গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই মিটার রিডাররা অফিসে কিংবা বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করছেন। ফলে কখনো প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে, আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একসঙ্গে যোগ করে স্লাব বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সন্তোষনগর গ্রামের মৃত আ. সামদের দুই ছেলের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের দুটি মিটার রয়েছে। রাহাজ্জান আলী (হিসাব নং- ১০১০০২৫৫৭২২২৫) এর ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল দেখানো হয়েছে ২৪৫ ইউনিট (২৩৭৫৫ থেকে ২৪০০০)। কিন্তু তার মিটারে বর্তমান রিডিং রয়েছে ২৩৯০৩ ইউনিট। এতে দেখা যাচ্ছে, বিল তৈরির প্রায় ১৪ দিন পরেও মিটারে ৯৭ ইউনিট কম রয়েছে।

একইভাবে সাজ্জাদুল আলম (হিসাব নং- ১০১০০২৫৫৭২২৪১) এর ক্ষেত্রে একই সময়ে ১১০ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হলেও তার মিটারে বর্তমান রিডিং রয়েছে ৩৪৮৬.৬ ইউনিট। অর্থাৎ বিল তৈরির পরও প্রায় ৭৩.৪ ইউনিটের গড়মিল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সাজ্জাদুল আলম বলেন, “মিটার না দেখেই কিভাবে এই ইউনিট লেখা হলো? আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একবারে যোগ করে দেওয়া হয়। এতে করে স্লাব বাড়লে প্রতি ইউনিটে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।”

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

অভিযুক্ত মিটার রিডার বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি মিটার ঘোলা থাকায় ঠিকভাবে দেখতে পারেননি এবং আরেকটি ভুলবশত লেখা হয়েছে। পরে বিষয়টি ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. গোলাম কাদির বলেন, “বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো মিটার রিডার মিটার না দেখে রিডিং লিখেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও খবর

Sponsered content