প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ১০:০৮:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সরকার একটি নতুন পদ্ধতি কার্যকর করেছে। এখন থেকে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গঠিত চারটি কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হবে। ২১ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে অনলাইনভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতির পরিবর্তে সনাতন কমিটি-নির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই কমিটিগুলোতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। যদিও জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতে কোনো বাইরের সদস্য রাখার বিধান নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করা এবং মন্ত্রণালয়ের ওপর কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ডিজিটাল যুগে যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব, সেখানে কেন আবার কমিটি-নির্ভর পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন, যারা প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান করেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি হবেন ইউএনও, জেলা কমিটির সভাপতি ডিসি এবং বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার। জাতীয় কমিটির সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব। এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্বচ্ছতা বেশি ছিল। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, শূন্য পদের তথ্য, চাকরির মেয়াদ, কর্মস্থলের দূরত্ব ও পারিবারিক অবস্থার মতো সূচকগুলো ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় বদলি ব্যবস্থা চালু রাখলে মানুষের হস্তক্ষেপ ও তদবিরের সুযোগ সীমিত হতো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, এটি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জারি করা নির্দেশিকায় অনলাইন বদলির সুযোগের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক নেতা জানান, নতুন ব্যবস্থায় বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বিদ্যমান অনলাইন পদ্ধতিকে আরও যুগোপযোগী করাই হবে প্রকৃত সমাধান।




















