স্টাফ রিপোর্টার (দৈনিক মতপ্রকাশ): ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ৩:৪৮:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন কারণে দেশের পোশাক খাত সংকটে পড়েছে। গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি, বিমানবন্দরের জটিলতা, আন্দোলন ও কর্মবিরতি ছাড়াও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে এবং কার্যাদেশ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে দেশে প্রায় ২০০টি পোশাক কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়েছে। ফলে রপ্তানি ক্রয়াদেশ হ্রাস, কর্মসংস্থান সংকট এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অবরোধ, লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে পণ্য পাঠাতে অনেক রপ্তানিকারককে ব্যয়বহুল বিমানপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দেশের পোশাক খাত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তিও হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, “দেশের সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সমাধান না হলে সংকট আরও গভীর হবে।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, “শাহজালাল বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। নতুন অর্ডারের প্রবাহেও ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।”
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, বিমানবন্দরের জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক বাধা মিলিয়ে গার্মেন্ট খাত এখন সংকট ব্যবস্থাপনার খাতে পরিণত হয়েছে।”
বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন পাভেল জানান, “পোশাক রপ্তানি ব্যবসা হুমকির মুখে। ক্রেতারা সময়মতো পণ্য পাবে কি না, সে বিষয়ে আস্থা পাচ্ছে না। যার কারণে তারা বাড়তি খরচ সাপেক্ষেও অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছে।”




















