তথ্যপ্রযুক্তি

শেকৃবি ছাত্রদল নেতা সামাদ ও সাকিবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পাহাড়

  প্রতিনিধি ১৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:০০:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

মো. আব্দুস সামাদ
মো. আব্দুস সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দুই শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরফান আলীর কাছে জমা দেন। উপাচার্য উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছেই অভিযোগপত্র হস্তান্তর করেন।

অভিযোগপত্রে শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, ছাত্রীদের অশ্লীল ছবি গোপনে ধারণ, ব্ল্যাকমেইলিং, আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সামাদ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গ্রুপিং ও প্রভাব বিস্তার করছেন। তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাদমান সাকিবের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সম্মতি ছাড়া ছবি তোলা এবং হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন স্ক্রিনশট তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা, যা প্রতিবেদকের কাছেও দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সাকিব তার ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) থাকাকালীন বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের প্রস্তাব দেয়া এবং প্রত্যাখ্যান করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সামাদ পাশের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবন থেকে তিন ট্রাক মালামাল এনে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন, তবে প্রতিবাদের মুখে তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর আবুল বাসার বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ডিসিপ্লিনারি কমিটি আছে। অভিযোগ সেখানে উপস্থাপন করা হলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রক্টর প্রফেসর আরফান আলী জানান,“শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের ডেকে জবাবও নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বাসায় আছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রশাসনের দায়িত্ব।”

সাদমান সাকিবের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে সাদমান সাকিবকে বহিষ্কার এবং আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা অনশন ও ক্লাস বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাশরাফি ইসলাম উৎস তার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ করেন। আরও একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নারী শিক্ষার্থী জানান, “আমরা অভিযোগপত্রে আমাদের কথা বলেছি। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাই।”

আরও খবর

Sponsered content