সারাদেশ

নেত্রকোনা-১ আসনে ভোটের হিসাব: ধানের শীষ ও রিকশায় মূল লড়াইয়ের আভাস

  সোহেল খান দূর্জয় , নেত্রকোনা : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:৫১:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। এখানে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয়দের ধারণা, মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে দুটি প্রতীকে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর গোলাম রব্বানী (রিকশা), জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আব্দুল মান্নান (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এর আলকাছ উদ্দিন মীর (কাস্তে) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর বেলাল হোসেন (তারা)।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাঁড়িয়েছে বিএনপির ধানের শীষ ও খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের মধ্যে। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা, মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও মতবিনিময়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর প্রচারে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা।

অন্যদিকে, ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘুরে এবার খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ঘিরে দলবদলের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

এ আসনে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় গারো, হাজং, কোচসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য ভোটার রয়েছেন—বিশেষত সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোতে। সরকারি আলাদা পরিসংখ্যান না থাকলেও তাঁদের ভোট নির্বাচনী ফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতনরা।

সীমান্তবর্তী এলাকার ভোটারদের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় কট্টরপন্থা ক্ষমতায় এলে সীমান্ত বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে প্রভাব পড়তে পারে। পরিচয় গোপন রেখে এক সীমান্তবাসী বলেন, সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁদের প্রত্যাশা। এই বাস্তবতায় সীমান্তাঞ্চলের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রাখছে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে—জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দলের অভিজ্ঞতা এবং তাঁর আইনগত ভূমিকার কারণে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নেত্রকোনা-১ আসনে নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। আদিবাসী ও সংখ্যালঘু ভোটার, সীমান্তবাসীর ভাবনা এবং তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রার্থী প্রতিক্রিয়ায় গোলাম রব্বানী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সিদ্ধান্তগুলো জনকল্যাণমুখী; প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, সুসম্পর্ক বজায় রেখেই উন্নয়ন চান তিনি। অন্যদিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, দল-মত, জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে তিনি এলাকার মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করছেন; অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের রায়ের প্রতিই তিনি আস্থাশীল।

আরও খবর

Sponsered content