সারাদেশ

নেত্রকোনায় বৃক্ষহত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ডেপুটি স্পিকারের

  সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ২৮ আগস্ট ২০২৬ , ৬:৩৬:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের পাশে পুনরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

কায়সার কামাল বলেন, “গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। যারা গাছগুলো উপড়ে ফেলেছে, তাদের খুঁজে বের করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাতে উপজেলার বামনীকোণা এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা ৩৫টি গাছের চারা উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কয়েকটি চারা ভেঙেও ফেলা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, “গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে।”

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুর জন্মদিন বা জীবনের অন্য কোনো বিশেষ দিন স্মরণীয় করে রাখতে একটি করে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নেত্রকোনায় প্রয়োজনের তুলনায় বৃক্ষের সংখ্যা কম। সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে কেন পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কাগজে-কলমে কতটি গাছ লাগানো হয়েছে, তার পাশাপাশি বাস্তবে কতটি গাছ টিকে আছে, সে তথ্যও তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ৫ আগস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content