এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৫০:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
‘সবার কল্যাণে তুলা বাণিজ্য, রূপান্তর ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি গড়া’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারের আয়োজনে বিশ্ব তুলা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় খামারের অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি ও শোভাযাত্রা বের করা হয়। তুলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কটন এগ্রোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম তালুকদারের নির্দেশনায় এবং খামারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাজিব কুমার দের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে খামারের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি খামারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে তুলা চাষের সম্ভাবনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় তুলা চাষ বাড়াতে আরও গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী তুলা চাষের সম্প্রসারণে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে তুলা উৎপাদনকারী আফ্রিকার চার দেশ—বেনিন, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মালির উদ্যোগে দিবসটি পালনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
তুলা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো চীন, ভারত, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্য পর্যন্ত তুলা খাতে আনুমানিক ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।
পলিয়েস্টারের পর বিশ্বে তুলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক আঁশ। মোট আঁশের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তুলা থেকে পূরণ হয়। তবে তুলা উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশের চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।





















