জাতীয়

নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

  প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:২৮:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর মেধা ও স্বপ্নকে বিকশিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেছে বিটিভি ও বিটিভি নিউজ।

বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের জন্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এক ডানায় ভর করে যেমন কোনো পাখি উড়তে পারে না, তেমনই নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’ তিনি বলেন, ‘কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া নয়- এটি তার মৌলিক অধিকার, আর তার নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’

চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিয়ে একটি শৈশবের থেমে যাওয়া এবং সম্ভাবনার অপচয়।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতায় কঠোর বিচারের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। যেকোনো বিপদে দ্রুত সহায়তার জন্য হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

অভিভাবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা না ভেবে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করুন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে সহায়তা করতে বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি পবিত্র কুরআন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার আলো তুলে ধরে সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা ও মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো এবং দক্ষতা অর্জন করো। অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা হেল্পলাইনের সহায়তা নাও।’

এ সময় অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও খবর

Sponsered content