প্রতিনিধি ৮ আগস্ট ২০২৫ , ১:১০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বনানীতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে নির্যাতন, পুলিশের সহায়তায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো—এমন নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার কলম্বিয়া সুপার মার্কেটের এক কসমেটিকস ব্যবসায়ী স্বপন রায়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মোল্লা মাসুম। টাকা না দেওয়ায় গত ৫ আগস্ট বিকেলে দলবল নিয়ে মার্কেটের সামনে এসে তাকে মারধর করে অপহরণ করে টিএন্ডটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতনের পরও টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বপন রায় শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের যুবক। ঘটনায় মাসুমের সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় সোর্সও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোল্লা মাসুম বনানী থানা এলাকার গোডাউন বস্তি, বেদে বস্তি, এরশাদ নগর বস্তি ও বেলতলা বস্তিকে ঘিরে তার অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। মাদক ব্যবসা, বিচার-সালিশের নামে ‘ফিটিং ব্যবসা’, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখল তার প্রধান আয়ের উৎস। আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটিয়ে থাকে।
এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল বনানীর এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্মাণাধীন ভবনে আটকে রাখে মাসুম। পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, হুমকি দেয় হত্যা করার। আংশিক অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীর জমির দলিলও আদায় করে। ওই ঘটনায় র্যাব-১ অভিযান চালিয়ে মাসুমসহ চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে এবং চারটি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও অপহরণে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন উদ্ধার করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার বিটিসিএল পূর্ব কলোনির একটি ভবন মাসুমের মাদক ব্যবসার গোপন আস্তানা। ভবনে কয়েকজন আনসার সদস্য থাকলেও তাদের যোগসাজশে সেখান থেকেই গোটা বনানী এলাকার ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মাসুম ও তার সহযোগীরা সেখানে মাদক সেবন, ভাগবাটোয়ারা ও অর্থ লেনদেন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনে আনসার সদস্যের সংখ্যা হাতে গোনা হলেও দিনভর মাদক কারবারিদের আনাগোনা লেগেই থাকে। এতে কলোনির বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়রা জানান, মোল্লা মাসুম একসময় বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়। বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
বনানীর অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, মাসুমের চাঁদাবাজিতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল সারোয়ার বলেন, “কেউ মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





















