মহসিন মোল্যা, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি ২ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৩৮:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক দীর্ঘ ১১ বছর বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দাবি করেছেন, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তথ্য অনুসন্ধান ও মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে শ্রীপুর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও ছিলেন মিনা মাসুদ উজ্জামান (পরিচিতি নং-৬৮৭৫)। ওই সময় স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সে সময় কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মুন্সী মো. নাসিরুল ইসলাম, যিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত ও লোকসমাজ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করতেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।
এরপর ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউএনও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি চিঠি পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তার এমপিও বাতিল করে এবং পূর্বে প্রাপ্ত প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে নির্দেশ দেয়।
এ অবস্থায় ওই শিক্ষক হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-২৫৪৫/২০১২) দায়ের করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রথমে আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং পরে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিও বাতিলের আদেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (নং-১২৯৬/২০১৩) দায়ের করলে ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পক্ষে রায় দেন (রুল অ্যাবসুলেট)। তবে ওই রায়ের আলোকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৩ সালে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করলেও পূর্বের ১১ বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। কেবল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তার এমপিও পুনরায় চালু করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার আবেদন করার পরও এখনো বকেয়া বেতন-ভাতা পাননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক পরিবার।




















