সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ২৯ মার্চ ২০২৬ , ১:১৬:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহুল আলোচিত অস্ত্রবাজ রিপন হোসেন (৩২), ওরফে রিপনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে যশোর জেলার নীলগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার রিপন দেবহাটার পারুলিয়া নোড়ারচক এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় ৬টি, কালিগঞ্জ থানায় ১টি এবং ফরিদপুর ও যশোরের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর রাত ৮টার দিকে দেবহাটা থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে যশোর থেকে থানায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পারুলিয়ার খলিসাখালী এলাকায় প্রায় ১,৪০০ বিঘা বৈধ মালিকানাধীন চিংড়ি ঘের দখল, লুটপাট এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এতে প্রায় ৩০০ জনের বেশি জমির মালিক দীর্ঘদিন জিম্মি অবস্থায় ছিলেন।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় জমির মালিক ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে দখলদারদের প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পুনরায় নিজ নিজ জমিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব জমির আয়ের ওপর স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রিপন ও তার সহযোগীরা একটি সশস্ত্র চক্র গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মুখে আত্মগোপনে থেকে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে জমির মালিক, ঘের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, রিপনের সহযোগী, অস্ত্র ও মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং ভুয়া আইডি পরিচালনাকারীদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যান্য থানার মামলাগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত আছে।”
খলিসাখালী এলাকার জমির মালিক ইকবাল মাসুদ বলেন, “রিপন দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্রভাবে জমি দখল, ডাকাতি ও লুটপাট চালিয়ে আসছিল। তাকে গ্রেফতার করায় আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে তার সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মজিদ হাজি, আব্দুল আজিজ ও রুহুল আমিনসহ স্থানীয়রা রিপনের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
রিপনের গ্রেফতারে দেবহাটা উপজেলার শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।




















