অপরাধ

রাজধানীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ৪

  প্রতিনিধি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৫৫:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য এবং অপর দুজন মাদক কারবারি। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আসামিদের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর আদাবর এলাকায় প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে একটি দেশীয় অস্ত্র (সামুরাই)-সহ মো. সুজন বেপারি (২৭) ও মো. রাব্বি (২২) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনই চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে পালানোর সময় তারা একটি দোতলা ভবনের ছাদ থেকে পাশের টিনশেডের ওপর ঝাঁপ দেয়ায় সামান্য আহত হন। পরে তাদের গ্রেফতার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

একইদিন গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে ১৩০ পুরিয়া ও ১০৫ গ্রাম হেরোইনের প্যাকেট, ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকাসহ মো. বুলু (৪০) ও মো. শাহাবুদ্দিন (২৪) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। জানা গেছে, গ্রেফতার বুলু ও শাহাবুদ্দিন চিহ্নিত মাদক কারবারি চুয়া সেলিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

গ্রেফতার চার আসামি এবং উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এই অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘অপরাধীদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপরাধ এবং সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য দমনে সেনাসদস্যরা সবসময় সতর্ক রয়েছে।

তিনি জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, কেউ এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানতে পারলে, তা নিকটস্থ সেনাক্যাম্প বা থানাকে অবহিত করতে পারেন।

আরও খবর

Sponsered content