সারাদেশ

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠির দুর্গাপ্রতিমা অপসারণের নির্দেশ, অনিশ্চয়তায় ব্রহ্মরাজপুরের পূজা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, দ্যুতিদীপন বিশ্বাস: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:৪১:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

 

দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা। দীর্ঘদিনের শ্রম, মমতা আর শিল্পীদের সৃজনশীলতায় গড়ে ওঠা এই প্রতিমা দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু পূজার শেষ মুহূর্তে অগ্নিনিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রতিমাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এতে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরে পূজার আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্রহ্মরাজপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর জনসমাগমের সময় সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি এড়াতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমাটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি থামিয়ে বিকল্প সমাধানের আশায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন আয়োজকেরা।

ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণয় দত্ত জানান, বিপুল পরিমাণ দিয়াশলাই কাঠি অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় জনসমাগমের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমাটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, উৎসবের আনন্দ সবার জন্য হলেও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। দিয়াশলাই কাঠি দাহ্য উপাদান হওয়ায় পূজার দিনগুলোতে আলোকসজ্জা, আরতি কিংবা অসাবধানতাবশত সৃষ্ট সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। উৎসবের সময় অগ্নিনিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আয়োজকেরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিমাটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তাঁরা প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি দিয়াশলাই কাঠি থেকে বারুদ অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপে পর্যাপ্ত বালু ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার নেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামাও জমা দিয়েছেন তাঁরা বলে জানান আয়োজকেরা।

কমিটির এক সদস্য বলেন, পূজার মাত্র এক দিন আগে নতুন করে প্রতিমা তৈরি বা অন্য প্রতিমা আনা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁরা পূজা সম্পন্ন করতে চান।

প্রতিমা অপসারণের নির্দেশ এবং আয়োজকদের বিকল্প ব্যবস্থার আবেদনের মধ্যে ব্রহ্মরাজপুরের পূজার আয়োজন ঘিরে এখন অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। প্রতিমাটি রেখেই নিরাপদে উৎসব উদযাপনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও খবর

Sponsered content