সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১০:৪৫:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনায় মাদকবিরোধী অভিযান প্রায় প্রতিদিনই চলছে। থানা-পুলিশ, ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে নিয়মিত গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। তবে অভিযান বাড়লেও কমছে না মাদকের বিস্তার।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৫১১টি মাদক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৯৫ জন। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ হাজার ৮৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৩৮ পিস ট্যাপেন্টাডল, ২১ দশমিক ৯৮ গ্রাম হেরোইন, ২২০ কেজি গাঁজা, ৬১১ লিটার চোলাই মদ, ৬৩১ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১ হাজার ৬০৮ বোতল ভারতীয় মদ, ১ হাজার ১০০ বোতল ওয়াস, ২৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ৩০টি গাঁজাগাছ।
পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেশি। কলমাকান্দায় ৪২টি মামলায় ৭৩ জন এবং দুর্গাপুরে ৪০টি মামলায় ৫৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তসংলগ্ন বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সন্ধ্যার পর মাদক বিক্রেতাদের তৎপরতা বাড়ে। বিশেষ করে কলমাকান্দার গুজাগলিয়া ফায়ার সার্ভিস এলাকা, পূর্ববাজার ড্রেইনপাড়, সিলহালা মোড়, মনতলা হাসপাতাল এলাকা এবং দুর্গাপুর পৌর শহরের দক্ষিণপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, মোক্তারপাড়া ও মাকরাইল এলাকায় মাদক লেনদেন চলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, “বাইরের লোকজন এসে দ্রুত লেনদেন করে চলে যায়। অভিযান হলে লুকিয়ে পড়ে, পরে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।” স্থানীয়দের মতে, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে বসবাস কম থাকায় সেগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারত থেকে বিভিন্ন কৌশলে মাদক প্রবেশ করে। বিস্তীর্ণ সীমান্ত ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন।
মাদকের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আটপাড়া উপজেলার পুখলগাঁও গ্রামের চা বিক্রেতা রাজন মিয়ার লাশ গত ১১ অক্টোবর একটি পরিত্যক্ত গুদামের পাশ থেকে উদ্ধার হয়। পুলিশ ধারণা করছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশাহারা তার পরিবার।
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার দিয়ে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরবরাহের উৎস বন্ধ, সীমান্ত নজরদারি জোরদার, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, “সীমান্তপথে যেসব রুট দিয়ে মাদক আসে, সেগুলোতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে। তবে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রেজওয়ান আহমেদ বলেন, “নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”




















