সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ৩০ মার্চ ২০২৬ , ৮:৫৯:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যস্ত থাকায় তার পরিবর্তে এক তরুণী ‘প্রক্সি শিক্ষক’ হিসেবে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তরুণী ‘রূপা’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. হান্নানের নাতনি। তিনি নিয়মিত বাংলা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান ও ইংরেজি পড়ান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, রুহুল আমিন ‘মাঝে মধ্যে’ এলেও রূপাই অধিকাংশ ক্লাস নেন।
গত ২৯ মার্চ সরেজমিনে দেখা যায়, খাতায় ৮৮ জন শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিত ছিল মাত্র ৯ জন।
এর পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে। প্রাপ্ত দলিল অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রধান শিক্ষক আ. হান্নান, জমিদাতা আ. মান্নান ও সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন যোগসাজশে বিদ্যালয়ের জমি স্থানীয় ‘মনসুর আহমেদ মহিলা কলেজ’-এর কাছে বিক্রি করেন এবং কলেজের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৩ সালে জালিয়াতি আড়াল করতে একই জমি পুনরায় জমিদাতা আ. মান্নান ও তার স্ত্রী হেলানা আক্তারের নামে ৯ লাখ ৫ হাজার টাকায় কিনে নেওয়া হয়। ওই দলিলে সাক্ষী ছিলেন রুহুল আমিন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মো. সিরাজুল ইসলাম। তবে গত বছরের ২২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতির কারণে বিদ্যালয়ের জমির স্বত্বাধিকার কাগজপত্রে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইকুল মিয়া বলেন, “রুহুল আমিন নিয়মিত স্কুলে আসেন না। ঠিকাদারিসহ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করেছি।”
সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, “প্রক্সি দেওয়ানোর বিষয়টি সবারই জানা। গ্রামের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই সত্যতা পাওয়া যাবে।”
অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিত স্কুলে যাই। বড় ক্লাসগুলো নিই বলেই হয়তো শিক্ষার্থীরা ভুল বলছে। রূপা মাঝে মাঝে শখ করে ক্লাস নেয় এবং দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করে।”
প্রধান শিক্ষক মো. আ. হান্নানও প্রক্সির অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “রূপা মাঝে মধ্যে দু-একদিন পড়িয়েছে মাত্র। শিক্ষক সংকট রয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) জিয়াউল হক বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষকের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।





















