মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল দিনাজপুর। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:১১:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)-এর চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, “আমি আজ অনেক ভালো আছি। কারণ বহুবছর পর আমার নানা–নানির দেশ দিনাজপুরে এসেছি। এই মাটির সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।”
তিনি বলেন, দিনাজপুর শুধু একটি জেলা নয়—এটি বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। ধানের জন্য দিনাজপুর যেমন বিখ্যাত, তেমনি বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকও ধানের শীষ। “ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই,”—যোগ করেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিরামপুর ও আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে উত্তরবঙ্গের এই দিনাজপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বেকারত্ব বেড়েছে, শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিতভাবে উন্নত হয়নি এবং চিকিৎসাসেবা মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন ছাড়া এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং দিনাজপুরের সুগন্ধি চালকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করা হবে। পাশাপাশি দিনাজপুরের লিচু ও আমসহ কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, ধানের শীষে ভোট দেন, আমরা একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।” বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়—এই দেশ জনগণের। জনগণের অধিকার জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে হবে।”
জনসভা শেষে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা যায়। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।




















