গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:০৯:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া ফকিরপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চুরি নিয়ে থানায় অভিযোগ দাখিলের পর ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে নুরুল ইসলাম (৩৮) নামের একজন নিহত এবং একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১১ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাত ৩–৪ জন চোর মানিক মিয়ার বাড়িতে প্রাচীর টপকে ঢুকে প্লাটিনা মোটরসাইকেল, ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। রাত ৩টা ৩০ মিনিটে নারী সাক্ষী বিথী বেগম সন্দেহভাজন রাশেদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি মই টেনে নিতে দেখেন।
পরদিন সকালে মানিক মিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সন্দেহভাজন পক্ষের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ দাখিলের পর মানিক মিয়াকে না পেয়ে তার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় রাশেদুল ও তার সহযোগীরা। বল্লম, ছোড়া ও লোহার রড দিয়ে নুরুল ইসলামের পেট ও হাতে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে বাঁচাতে গেলে পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য আহত হন।
নুরুল ইসলামকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৫ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহত পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতের স্ত্রী শরিফা খাতুন বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
বাদী মানিক মিয়া বলেন, “আমি থানা অভিযোগ করেছি বলেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।”
এজাহারকারী মোকাররম হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশ শুধু তদন্ত করে ফিরে গেছে, কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ঘটনার বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সুধীজনের ভাষ্য, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মানিক মিয়া ও শরিফা বেগমসহ ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।




















