প্রতিনিধি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:৩৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে অক্ষত রয়েছেন অভিনেতা। গুলিতে তার গাড়িচালকসহ আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ফুটবল মাঠ থেকে বিএমডব্লিউ সেডানে করে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এক হামলাকারী গাড়ির জানালার একেবারে কাছে গিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করলেও তার অস্ত্রটি আটকে যায়। এর মধ্যে অন্তত চারটি গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে হামলাকারীরা আগে থেকে প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
গুলিতে গাড়িচালক ফিরদৌস আহত হলে টাইগার প্রথমে সামনের যাত্রীর আসন থেকে চালকের আসনে চলে যান। আশপাশের লোকজনকে তখন চিৎকার করতে শোনা যায়। গাড়ি ও সড়কে রক্তের দাগও দেখা গেছে। পরে আহত চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, টাইগার শ্রফ নিরাপদে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দাবি
এ হামলার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির একটি অডিও বার্তা সামনে এসেছে। ওই অডিওতে অনিল পণ্ডিত নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। তার অভিযোগ, টাইগার তাদের নির্দেশ মানছিলেন না এবং অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন।
গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দীর্ঘদিন ধরে সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। সালমানের ঘনিষ্ঠজনেরাও এর আগে হামলা ও হুমকির শিকার হয়েছেন।
তবে অডিও বার্তার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির পরিচয় ও হামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় এবং এর সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য এবং হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।















