প্রতিনিধি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:১২:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
রমজানে ম্যাচে বিরতি দেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও ইএফএল। ফলে রোজা ভাঙার সুযোগ পাবেন মুসলিম খেলোয়াড়রা
রমজান উপলক্ষে আগের মতোই বিশেষ ব্যবস্থা চালু রাখছে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবলl লিগে ম্যাচ চলাকালে সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে মুসলিম খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের রোজা ভাঙার সুযোগ দেওয়া হবে।
এই সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া রমজান এক মাসব্যাপী চলবে। এ সময় ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মুসলমানরা পানাহার থেকে বিরত থাকেন। যুক্তরাজ্যে এ সময়ে সূর্যাস্ত হয় আনুমানিক বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। ফলে শনিবারের ও রোববারের কিক-অফ হওয়া ম্যাচগুলোতেই বিরতির সম্ভাবনা বেশি।
আগের বছরের মতোই দলীয় অধিনায়ক ও ম্যাচ কর্মকর্তারা খেলার স্বাভাবিক বিরতির মুহূর্ত খুঁজে নেবেন, যাতে মুসলিম খেলোয়াড় বা কর্মকর্তারা রোজা ভাঙতে পারেন। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দল ও কর্মকর্তারা আলোচনা করে বিরতির প্রয়োজন ও সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করবেন। এই বিরতি কোনোভাবেই টিম ড্রিংকস ব্রেক বা কৌশলগত টাইম-আউট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
খেলা চলমান অবস্থায় তা থামানো হবে না। গোল-কিক, ফ্রি-কিক বা থ্রো-ইনের মতো সুবিধাজনক মুহূর্তে সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া হবে।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে এই ব্যবস্থা চালু হয়। ওই বছর এপ্রিল মাসে লেস্টার সিটি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচে গোল-কিকের সময় খেলা থামিয়ে লেস্টারের ওয়েসলি ফোফানা ও প্যালেসের শেখু কুয়াতে রোজা ভাঙার সুযোগ পান।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো রমজানে দিনের বেলায় রোজা রাখা, যা ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন বেশ কয়েকজন মুসলিম ফুটবলার, যেমন- মোহামেদ সালাহ, উইলিয়াম সালিবা, রায়ান এইত-নুরি ও আমাদ দিয়ালো প্রমুখ।
২০২৩ সালে বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এভারটন খেলোয়াড় আব্দুলে ডোকোর বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে আপনি আপনার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে স্বাধীন। তারা কখনও আপনার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু করবে না-এটি সত্যিই দারুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রতিদিনই রোজা রাখি, কোনো দিন বাদ দিই না। এখন এটি আমার জন্য স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে গেছে। রমজানে অনুশীলন আগের মতোই থাকে। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে গেলে অন্যদের তুলনায় একটু দেরিতে খেতে হয়, তাই শেফ আমাদের জন্য আলাদা করে খাবারের ব্যবস্থা করেন। আমরা হালাল খাবার পাই, কোনো সমস্যা হয় না।’
এছাড়া ২০২২ সালে সাবেক লিভারপুল তারকা সাদিও মানে জানান, রমজান মাসে মুসলিম খেলোয়াড়দের সহায়তায় ক্লাবটি তাদের অনুশীলনের সময়সূচিও পরিবর্তন করেছিল।




















