প্রতিনিধি ৮ জুলাই ২০২৫ , ৩:৩২:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
📰 স্টাফ রিপোর্টারঃ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আরও একবার পেছানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আগামী ১১ আগস্ট ধার্য করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ১১৯ বার পেছানো হলো, যা দেশে আলোচিত ও দীর্ঘসূত্রিতার সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক এদিনও প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। আদালত তাই নতুন দিন ধার্য করে আগামী ১১ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—
রফিকুল ইসলাম
বকুল মিয়া
মাসুম মিন্টু
কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন
আবু সাঈদ
পলাশ রুদ্র পাল (সাবেক নিরাপত্তারক্ষী)
এনায়েত আহমেদ (সাবেক নিরাপত্তারক্ষী)
তানভীর রহমান খান (পরিচিত বন্ধু)
এর মধ্যে তানভীর রহমান ও পলাশ জামিনে মুক্ত, আর বাকিরা এখনো কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত ছিল থানা পুলিশের এসআইয়ের হাতে। পরে তা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল ২০১২ মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র্যাবের কাছে। কিন্তু তারাও সফল হতে পারেনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলায় একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয় পিবিআই প্রধানকে, এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়।
সেইসঙ্গে র্যাবকে এই তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় দেশজুড়ে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।




















