মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৪ মার্চ ২০২৬ , ৭:৫১:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় এক দশক ধরে অচল পড়ে আছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের জামালপুর বাঘদাছড়া এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি এখনো চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। যানবাহন তো দূরের কথা, মানুষ কিংবা গবাদিপশুর চলাচলও কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে এটি উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে এলাকাবাসীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হরষপুর রেলওয়ের ৩২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এই সেতুর দুই পাশে প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হলেও রহস্যজনকভাবে সেতুর সঙ্গে সড়ক সংযোগ দেওয়া হয়নি। এতে হরষপুর থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসীকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এতে প্রতিদিন সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষ। অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন কেউ কেউ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে পারাপার করছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে—পানি বৃদ্ধি পেলে অনেকে রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে পারাপার করেন। প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ এই সেতু পার হতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট। এ সময় ট্রেন এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণ হলেও সংযোগ না থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের প্রশ্ন—সেতু নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহারযোগ্য করা হলো না কেন?
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সেতুটি দ্রুত মেরামত করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সেতুটি চালু করে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।




















