শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: ২৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:০৬:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের পর থেকে পাটকেলঘাটা, ত্রিশমাইল, কলারোয়া, বুধহাটা, ধুলিহর, এবি খান ও আলিপুরসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খুলনা থেকে তেল সরবরাহের অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে সীমিত পরিমাণে পেট্রোল দেওয়া হলেও অধিকাংশ স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এই সংকটকে পুঁজি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পেলেও খুচরা দোকানে সহজেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক স্থানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন মাঠে নেমেছে। একই দিনে সদর ও কলারোয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক দুটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদ হোসেন-এর নেতৃত্বে ঝাউডাঙ্গা ও মেসার্স হোসেনসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপু-এর নেতৃত্বে আলিপুর, সোনালী, কপোতাক্ষ, এবি খান ও সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনসহ আরও কয়েকটি পাম্পে তদারকি চালানো হয়।
অভিযানকালে রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্টার যাচাই করা হয়। এসময় জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ সংক্রান্ত ভাউচার প্রদর্শন করতে না পারায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ২টি পৃথক মামলায় মোট ১২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি না করা হয়।
এদিকে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলা হয়েছে এবং কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।




















