খেলাধুলা

সেঞ্চুরি করে ঘরোয়া ক্রিকেটকেই কৃতিত্ব দিলেন সালমান

  প্রতিনিধি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:৪৪:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান আগা সালমান জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যাওয়াই তার ব্যাটিংয়ের ছন্দ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শ্রীলংঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে ঘরের মাঠে শুরু হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পর নিজের ফর্মে ফেরার রহস্য জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন আগা সালমান। আগস্টের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে দুর্দান্ত শতক তুলে নিয়ে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলেন তিনি।

গত কিছুদিনে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ছোট সংস্করণে হারিয়েছিলেন অধিনায়কত্বও। ফর্ম ফিরে পেতে তাকে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরতে হয়।

সেই ফেরাটা কাজে লেগেছে দারুণভাবে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রেসিডেন্টস ট্রফির প্রথম বিভাগে কিংসমেনের হয়ে অপরাজিত ত্রিশতক হাঁকান আগা সালমান। এরপর গত মাসের শেষ দিকেও একই প্রতিযোগিতায় আরেকটি শতক করেন তিনি। ফলে নির্বাচকদের নজরেও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ৯০ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন আগা সালমান। তার মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাই এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথেষ্ট সম্মান দিই না। অনেকের ধারণা, সেখানে খেলার পরিবেশ খুব সহজ এবং রান করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। তা হলে তো সবাই সেখানে গিয়ে রান করত। আমার মতো কোনো খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাবেক ক্রিকেটার কিংবা সংবাদমাধ্যমের অনেকে বিষয়টিকে ছোট করে দেখেন। বলেন, সে তো শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটেই রান করেছে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা যে মোটেও সহজ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আগা সালমান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা সহজ নয়। সেখানে গিয়ে ভালো খেলতে হয়, লড়াই করে রান করতে হয়। তা না হলে রান আসে না। ঘরোয়া ক্রিকেটকে ছোট করে দেখা দুঃখজনক। আমার মতো যারা এই কাঠামো থেকে উঠে এসেছে, তাদেরও স্বীকৃতি প্রাপ্য। আমি ১০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর চার থেকে সাড়ে চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করেছি। সৌদ শাকিলও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই উঠে এসেছে এবং আজ দারুণ খেলেছে। আরও অনেক ক্রিকেটার আছেন, যাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান জানিয়ে আগা সালমান আরও বলেন, ‘এখন সময় এসেছে ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার। কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ফর্ম হারিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ভালো খেললে, সেটিকে সহজ বলে উড়িয়ে না দিয়ে তার প্রশংসা করা উচিত। আমার কথাই ধরুন, পাঁচটি ঘরোয়া ম্যাচ খেলে আমি ফিরেছি। আমার ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য ও কৌশলে সমস্যা ছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে খেলেছি, পারফর্ম করেছি এবং নিজের উন্নতি করেছি। আল্লাহর রহমতে সেই সাফল্য এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কাজে লেগেছে। ঘরোয়া ক্রিকেট তার প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার সময় এসেছে।’

টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া এবং ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট দলে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন আগা সালমান। লিডসে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে তাকে আর টেস্ট দলে রাখা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা সময়টাকে নিজের খেলার উন্নতিতে কাজে লাগিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

তিনি বলেন, ‘তিন-চারটি টেস্ট ম্যাচ আমার ভালো যায়নি। কিন্তু তার আগে টানা চার বছর আমি ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছি। তাই আলোচনায় থাকা বা আলোচনার বাইরে চলে যাওয়া আমার কাছে খুব বড় কোনো পরিবর্তন নয়।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খারাপ সময় কাটিয়ে ফেরা কঠিন বলেও স্বীকার করেছেন আগা সালমান।

তার ভাষায়, ‘তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। কারণ, তখন বিশ্বের সেরা পেশাদার ক্রিকেটারদের বিপক্ষে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে হয়। ফর্ম হারানোর পর আবার ছন্দে ফিরতে সময় লাগে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে পরবর্তী ম্যাচে মঙ্গলবার আবার মাঠে নামবে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতেই তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

আরও খবর

Sponsered content