প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ১০:৩৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের কথার প্রতিফলন মাঠের খেলায় ঘটাতে পারছেন না বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। বুধবার আফগানিস্তানের কাছে হারের পর তিনি বলেন, বিশেষ করে দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ।
গত দুই বছরে দেশের বাইরে ১৬টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় মাত্র দুটিতে, বাকি ১৪ ম্যাচেই হার। এই হতাশাজনক পরিসংখ্যানের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচ পরাজয়। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে সাত উইকেটে হারিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছে আফগানিস্তান। একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সঙ্গী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।
আফগানিস্তানের কাছে হারের পর সাংবাদিকদের হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কথার সঙ্গে কাজের মিল ঘটাতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বাইরে আমরা ভালো করছি না—এ কথার সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। প্রায় দেড় বছর ধরে এমনটা চলছে। আমার মনে হয়, বাইরের পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং ম্যাচ ও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী খেলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখে বললে হবে না, মাঠেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’
দেশের মাটিতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘এই একই দল বড় দলগুলোকে হারিয়েছে। দেশের মাটিতে আমরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়েছি। এক-দুটি ম্যাচ কিংবা একটি-দুটি সিরিজের ভিত্তিতে পুরো দলকে বিচার করতে চাই না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে খেলা ম্যাচগুলোতে আমাদের ব্যাটিং বিভাগ ধারাবাহিকভাবে খুব বাজে পারফরম্যান্স করেছে। এ কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হচ্ছে।’
হৃদয়ের ভাষায়, ‘দেশের মাটিতে খেললে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে। তাই দেশের বাইরে খেলতে গেলে কিছু জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
বাংলাদেশের এই অধিনায়ক আরও মনে করেন, মানসিকতা ও খেলা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি জরুরি। এই দুই জায়গায় ঘাটতির মূল্য দিতে হচ্ছে দলকে।
হৃদয় বলেন, ‘সমস্যাটা অবশ্যই মানসিকতার। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেললে সফল হওয়া খুব কঠিন। পুরো দল, বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগ যখন একসঙ্গে ভেঙে পড়ে এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না, তখন বুঝতে হবে আমাদের আরও ভালো পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
খেলার পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘খেলা বোঝার ক্ষেত্রেও আমাদের কাজ করতে হবে। শুরুতেই উইকেট পড়ে গেলে কিংবা একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হলে কিছু পরিস্থিতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হয়। কিন্তু আমরা যখন ভেঙে পড়ি, তখন সবাই একসঙ্গেই ভেঙে পড়ি। এ জায়গায় একজন কিংবা দুজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব নিয়ে দলকে খারাপ পরিস্থিতি থেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’
হৃদয়ের মতে, একক নৈপুণ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ক্রিকেটারেরও অভাব রয়েছে বাংলাদেশের দলে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলেই কয়েকজন ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় থাকেন, যারা বিশ্বাস করেন খারাপ পরিস্থিতি থেকেও দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন। আমার মনে হয়, এই জায়গাটিতে আমাদের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।’





















