নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৪৩:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আলু ও পটলের ক্ষেত নষ্ট এবং ফসল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চক কালিকাপুর মৌজায়। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মৌজার জে.এল. নং–২৪৯, খতিয়ান নং–৩৯-এর দাগ নং ২৩১, ২৩২ ও ২৬৪-এর মোট ৮২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি বিরোধের জেরে গত ২৫ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আলু ও পটলের ক্ষেত তুলে ফেলে। এতে প্রায় ১২ মণ আলু নষ্ট ও চুরি হয়ে যায়। পাশাপাশি পটলের প্রায় এক হাজার ৪০০টি খুঁটি চুরি করা হয় এবং পটলের গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় চক কালিকাপুর গ্রামের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. নওশাদ আলী, মো. মোজাম্মেল হক, মো. মোকছেদ আলী, মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ মোট ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. নওশাদ আলী বলেন,
“আলু বা পটলের ক্ষেত নষ্টের সঙ্গে আমরা জড়িত নই। বিবাদমান জমিতে আমাদের বৈধ অংশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্থানীয় আমিনের মাধ্যমে আমরা আমাদের অংশ বুঝে নিয়েছি।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলায় এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ফসল নষ্টের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে বলে তারা জানান। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন,
“বিষয়টি সম্পর্কে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং ফসল নষ্ট ও চুরির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















