গাজীপুর প্রতিনিধি: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৬:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গীতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অন্তত ৬ জন আহতের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারকৃতরা যুবদলের কেউ নন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় থানা যুবদল নেতারা।
বুধবার বিকেলে টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল এবং তরিকত পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার রয়েলসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে সাফি হাসান রিয়ান ও তার সহযোগীরা জানতে পারেন, ঝিনু মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নকল পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন কারখানার আইডি কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৫), নয়ন ইসলাম রাজ (৩২) ও সাফি হাসান রিয়ান (৩৪) আহত হন। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরদিন রোববার আহতরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ফিরোজ মিয়া (২৭), শামীম হোসেন (২৪), শাহাদাত হোসেন (২৭), আব্দুল মালেক (৫৫), তার ছেলে মাহিম (১৫), কর্মচারী মোঃ রোহান (২০)সহ রবিউল, নয়ন ও সাফি আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতে পুলিশ মোঃ রবিউল ইসলাম, নয়ন ইসলাম রাজ ও সাফি হাসান রিয়ানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়, রবিউল ও নয়ন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের কর্মী এবং সাফি টঙ্গী পূর্ব থানা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তারা সাম্প্রতিক নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“গ্রেপ্তারকৃতরা কেউ যুবদলের সদস্য নয়। আমরা সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতেই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।”
গ্রেপ্তার সাফি হাসান রিয়ানের বড় বোন রিতু আক্তার অভিযোগ করে বলেন,“আমার ভাই নকল নির্বাচনী কার্ড তৈরির প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। মামলা করার পরও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। বরং উল্টো আমার ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক দাবি করেন, তিনি কোনো নকল কার্ড তৈরি করেননি। কেন তার দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়েছে, তা তিনি জানেন না। রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ-এর কাউন্সিলর প্রার্থী আজমিরি খান টুটুলের পক্ষে কাজ করেছিলেন। তবে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।




















