সারাদেশ

টঙ্গীর ২১ বস্তিতে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস, পুনর্বাসনের আশায় কাটছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম

  মোঃ নুরুজ্জামান শেখ, গাজীপুর: ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:০৩:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ


ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকায় স্বাধীনতার আগ থেকেই গড়ে ওঠা ২১টি বস্তিতে এখনও বসবাস করছেন কয়েক লাখ নিম্নআয়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সরকার পরিবর্তন হলেও এসব বস্তিবাসীর জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ, কেরানিটেক, জিআরপি বস্তি, নেকারবাড়ি, মাছিমপুর, হাজীর মাজার, টঙ্গী বাজার গরুর হাট, মিলগেট চুরি ফ্যাক্টরি, কলাবাগান, তেঁতুলতলা, নামার বাজার, সান্দারপাড়া, কড়ইতলাসহ মোট ২১টি বস্তিতে বহু বছর ধরে মানুষের বসবাস। এসব বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দাই বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালক, রাজমিস্ত্রি ও গৃহকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বস্তিবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তা আর বাস্তবায়ন হয় না। তাদের দাবি, অতীতে কিছু মানুষ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলেও প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত হয়েছেন।

মিলগেট কলাবাগান বস্তির বাসিন্দা আম্বিয়া বলেন, “নির্বাচনের সময় আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়, ভোট নেওয়া হয়। কিন্তু পরে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়।”
নোয়াগাঁও বাহারআলী টেক বস্তির সাবেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “আমরা ভোট দিয়েছি, কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছি উচ্ছেদ। অনেক পরিবার এখনো রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

টঙ্গী বাজার গরুর হাট বস্তির বাসিন্দা মালেকা নতুন সরকারের কাছে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমাদের স্বাভাবিকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক।”

স্থানীয় তৃণমূল সংগঠক মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, “বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা জরুরি। অপরাধীদের আলাদা করে প্রকৃত অসহায়দের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি জানানো হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

বস্তিবাসীদের মতে, কিছু বেসরকারি সংস্থা কাজ করলেও সরকারি উদ্যোগে দৃশ্যমান উন্নয়ন খুবই সীমিত। তাই দ্রুত পরিকল্পিত পুনর্বাসন, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content